মালয়েশিয়ায় বিয়ে করে ২০ হাজার বাংলাদেশী স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন,প্রতিবছর বাড়ছে বিয়ের সংখা!

মালয়েশিয়ায় বিয়ে করে- মালয় বধূর নানা গুণে মুগ্ধ বাংলাদেশের জামাইরা। বাংলাদেশিদের বিবেচনায়, মালয় মেয়েরা ভালো গৃহিণী, নিরলস পরিশ্রমী, জামাইকে জামাই আদরে রাখতে জানে। বরের বাড়তি বিষয়ে নাক গলায় কম। তারা পরিশ্রমী স্বামীকে সম্মান করে। জাত-ক‍ুল নিয়ে মাথা ঘামায় না মোটেও।তাই ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী আর ছাত্র থেকে শুরু করে শ্রমিক স্বামীও আছে মালয়েশিয়ার মেয়েদের। সব মিলিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমৃদ্ধ এই দেশটিতে জামাই তকমা গায়ে সেঁটেছেন ২০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি। প্রতিবছরই এ সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই ছেলে মেয়ে আর নাতি-নাতনি নিয়ে সুখের জীবন কাটাচ্ছেন মালয়েশিয়ায়।

 

দেশটিতে বিয়ে করলে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের, এমনকি স্থায়ী হওয়ার পথ যেমন সুগম হয়, তেমনি বেড়ে যায় সামাজিক সম্মানও। বিপরীতে মালয় মেয়েরাও বুঁদ হয়ে আছে বাংলাদেশি স্বামীর সান্নিধ্যে। এই যেমন সিঙ্গাপুর সীমান্তের শহর জোহর বাহরুর মালয় মেয়ে নূরে লিজা’র কাছে বাংলাদেশি স্বামীরা কেমন জানতে চাইলে স্মিত হেসে জানান, রাগ একটু বেশি। কিন্তু জামাই ভালো। বাংলাদেশের মানুষ ভালো।বাংলাদেশি ব্যবসায়ী স্বামীর সঙ্গে ১৪ বছর ঘর করে বাংলা ভাষাটা মোটামুটি ভালোই রপ্ত করেছেন লিজা। তাই হুট করে তাকে বাংলাদেশি বলে ভ্রমও হতে পারে। তার মতো অধিকাংশ মালয় বধূই স্বামীর দেশের ভাষাটাকে রপ্ত করেছেন বেশ। আর ছেলেমেয়েগুলোর কাছে তো মাতৃভাষা মালয়ের পাশাপাশি বাংলাও।

 

কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী চাঁদপুর সমিতির সভাপতি সেলিম নুরুল ইসলামও বিয়ে করেছেন মালয় মেয়েকে। মালয় বধূ সম্পর্কে তার সোজাসাপটা বক্তব্য, এরা সংসারটা ভালো বোঝে। আমার কোথায় কোন ব্যবসা, কোন ব্যাংকে কতো টাকা তা নিয়ে বউ কখনো আগ্রহ দেখায় না। বাড়িটাকে পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখে। আমার সংসারটা তো সেই সামলায়।আর এক মালয় জামাই সীমান্ত শহর জোহর বাহরুর বাংলাদেশ কমিউনিটি সেক্রেটারি এমজে আলমের ভাষায়, বাংলাদেশ থেকে যারা এখানে আসে তারা তো কেউ রাজপুত্র নয়। আসে কাজ করতে। তাদের পরিবারের কী ব্যাকগ্রাউন্ড, কী আছে কী নেই, তা নিয়ে মাথা ঘামায় না এখানকার মেয়েরা। তারা যদি দেখে ছেলে পরিশ্রমী আর দায়িত্বশীল, তাহলেই বিয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত ভাবনা ভাবতে পারে এরা।

 

বাংলাদেশ জোহর কমিউনিটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফাহিমও বিয়ে করেছেন মালয় মেয়েকে। তার বক্তব্যও অনেকটা একই সূত্রে গাঁথা। তার মতে, এখানকার মেয়েরা সংসারটা বোঝে। স্বামীর পেছনে অযথা লেগে থাকে না। বউ হিসেবে এদের তুলনা নেই।বালাকঙের সফল ব্যবসায়ী নাজমূল ইসলাম বাবুলও বেশ ভক্ত মালয় বউয়ের। হোটেলের কাউন্টারে কর্মব্যস্ত বউকে দেখিয়ে বলেন, ওরা কাজ পাগল। বাংলাদেশের ছেলেরা মুসলিম হওয়ায় জামাই বাছাইয়ে তাদেরই এগিয়ে রাখে।বিয়ের পর প্রথমেই এখানে ৩ মাসের ডিপেনডেন্ট ভিসা জোটে বরের। তারপর সেই ভিসা বেড়ে পর‌্যায়ক্রমে ৬ মাস, ১ বছর, ৫ বছর- এভাবে বাড়তেই থাকে। তবে পরিবর্তিত কিছু আইন-কানুনে এখন ওয়ার্কারদের বিয়ে করার সুযোগটা কমে গেছে। কিন্তু পেশাজীবী, ব্যবসায়ী আর স্যোসাল ভিজিটে ছাত্রদের মালয় মেয়ে বিয়ে করার সুযোগটা ঠিকই আছে।

 

এখানে বিয়ে করার প্রক্রিয়াগুলোও বেশ ছকে বাঁধা। ছেলেমেয়ে নিজেরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলে প্রথমেই প্রয়োজন পড়বে মেয়ে পক্ষের অভিভাবকের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট। সাধারণত মেয়ের বাবা বা বড় ভাই এই পত্র দিয়ে থাকেন। বিপরীতে ছেলে পক্ষের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেবে স্থানীয় হাইকমিশন।এরপর বিয়ের ফর্মে ইমাম চিঠি দিলেই ব্যবস্থা পাকা। তবে মেয়ের অভিভাবক রাজি না হলে কোর্ট ম্যারেজেরও সুযোগ আছে। যদিও এক্ষেত্রে জরিমানা গুণতে হবে নগদ হাজার রিঙ্গিত। তবে এরপর ডিপেনডেন্ট ভিসা আর মেয়ের স্পন্সরশিপ পেতে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না।মালয়েশিয়ায় ছেলে অনুপাতে মেয়ের সংখ্যা বেশি হওয়াতেই মূলত বাংলাদেশি পাত্রদের এখানে বিয়ে করে স্থায়ী হওয়ার এমন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে কুয়ালালামপুর বা জোহর বাহরুর চেয়ে মালয় অধ্যুষিত কেলানটান আর তেরেনগনু রাজ্যে বাংলাদেশি জামাইয়ের সংখ্যা বেশি।

 

 

সব মিলিয়ে দেশটিতে নিয়মিতই যোগ হচ্ছে নতুন-নতুন বাংলাদেশি জামাইয়ের নাম। আসছে ১২ ডিসেম্বর কুয়ালালামপুরে বিয়ে হচ্ছে আব্দুল্লা রাজিব নামে কুমিল্লা থেকে পড়াশোনা করতে আসা এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের।

 

মালয়েশিয়ায় বান্ধবীর খপ্পরে প্রতারিত বাঙালি যুবক

বান্ধবীর প্রতারণায় ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা খোঁয়ালেন এক বাংলাদেশি যুবক। মালয়েশিয়ায় ওই নারীর প্রতারণায় তার স্বামী এবং আরও দুই যুবক জড়িত ছিলেন। মঙ্গলবার জালান পুডুর একটি হোটেলে মালয়েশিয়ান এক তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে যান ৩১ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশি তরুণ।এই তরুণ গত ১৩ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। ডাং ওয়াংগি পুলিশের সহকারী কমিশনার সাহারুদ্দিন আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, ওই তরুণ ৪০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (প্রায় ৮ লক্ষ ২০ হাজার টাকা) সঙ্গে নিয়ে ওই হোটেলে গিয়েছেন। তার বান্ধবী ধার হিসেবে ওই টাকাটা চেয়েছিলেন।

 

তবে হোটেল থেকে ওই তরুণকে প্রলুব্ধ করে বাইরে নিয়ে আসেন ওই তরুণী। এরপর স্বামীসহ দু’জনকে নিয়ে ওই তরুণের কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সানওয়ে টেকনোলজি পার্ক থেকে ওই নারীর স্বামীকে আটক করে পুলিশ।একই সঙ্গে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত গাড়িটিও আটক করে পুলিশ। এছাড়া ওই তরুণীর অবস্থান সর্ম্পকে জানা যায় এবং ১ হাজার ৪৫০ রিঙ্গিত ও একটি মোবাইল জব্দ করা হয়। তবে অন্য দুই সঙ্গী এখনও পলাতক রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *