Breaking News
Home / লাইফস্টাইল / শরীরে ভিটামিনের অভাব হলে যেসব চিহ্ন প্রকাশ পায়

শরীরে ভিটামিনের অভাব হলে যেসব চিহ্ন প্রকাশ পায়

শরীরে ভিটামিনের অভাব হলে সারাদিন ছোটাছুটি, নানারকম পারিবারিক কাজসহ হাজারটা ব্যস্ততা- সব মিলিয়ে একটা দিনকে আর দিনের কাজগুলোকে সুষ্ঠভাবে শেষ করতে গিয়ে অনেকেই ভুলে যান যে কাজ করার অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়া-দাওয়া করা।কারণ, খাবারই আপনার শরীরকে দিতে পারে কাজ করার ক্ষমতা। ভাবছেন খাবার তো আপনি খানই। তাহলে আবার তাতে এতো খেয়াল রাখার কী আছে? আছে। দিনে তিনবেলা তো খাচ্ছেন আপনি। কিন্তু কখনো কি এটা ভেবে দেখেছেন যে সেই খাবার থেকে আপনার শরীর তার চাহিদামতন ভিটামিনগুলো পাচ্ছে কিনা?

শরীরে ভিটামিনের এই অভাবগুলো কিন্তু খুব ছোট ছোট উপসর্গের মাধ্যমে চিনে নিতে পারবেন আপনি। তাই এখুনি মিলিয়ে নিন আপনার শরীরেও এই ব্যাপারগুলো ঘটছে কিনা আর পূরণ করুন ভিটামিনের অভাবকে।

 

১. মাংসপেশীতে ব্যথা: শরীরের নানা স্থানের মাংসপেশীতে ব্যথা হতেই পারে। তবে সেটা যদি নিয়মিত একটা ব্যাপারে দাড়িয়ে যায় তাহলে আর বসে না থেকে চিকিত্সকের কাছে চলে যান। বিশেষ করে সেই ব্যথার সাথে সাথে আপনার শরীরের হাড় আর দাঁতেও যদি সমস্যা দেখা দেয় তাহলেতো আর কথাই নেই।

কারণ, এসবের মাধ্যমে আপনার শরীর পরিষ্কারভাবে এটা বলতে চাইছে যে আপনার শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব হয়েছে। ভিটামিন ডি এর এই অভাবকে কাটিয়ে উঠতে বেশি করে দুধ ও দুধজাতীয় খাবার খান। সেই সাথে চর্বিযুক্ত মাছ ও টুনা মাছ খেতে পারেন।

২. হাঁটতে সমস্যা: পা ফেলতে পারছেননা ঠিকভাবে কিংবা কোন অনুভূতিই হচ্ছেনা আপনার পায়ে? তাহলে আপনার শরীরে রয়েছে ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি। ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতির কারণে মস্তিষ্ক ঠিকঠাকভাবে কাজ করতে পারেনা। ফলে সেই প্রভাবটা পড়ে পায়ের ক্ষেত্রে। হাঁটার সময় মস্তিষ্ক ঠিকঠাকভাবে আপনার পাকে নির্দেশনা দিতে পারেনা বিধায় হাঁটতেও সমস্যা হয় আপনার। শরীরে ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি পূরণ করতে বেশি করে শাক-সব্জি, মাছ, মুরগী খান।

৩. মুখের দূর্গন্ধ: আপনার মুখে কি সবসময়েই দূর্গন্ধ ভর করে থাকছে? টুথপেস্ট, খাবার, পানি, চকোলেট- এসবের ওপরেই চলতে হচ্ছে আপনাকে? তাহলে আপনি ভুগছেন ভিটামিন বি৩ এর অভাবে। ভিটামিন বি৩ আপনার ফুসফুসের কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। আর এর ফলে সেটি ঠিকঠাকভাবে খাবার হজম করতে পারেনা। মুখে তৈরি হয় দূর্গন্ধ। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে বেশি করে মাংস, চর্বিযুক্ত মাছ, সূর্যমুখীর বীজ ইত্যাদি খান।

৪. আবেগজনিত সমস্যা: সবসময় ভিটামিনের অভাব আপনার শরীরকেই প্রভাবিত করেনা। মনকেও করে। এই যেমন ভিটামিন বি১। এই ভিটামিনের অভাবে আপনাকে বেশিরভাগ সময় হতাশায় নিমজ্জিত থাকবার মতন বিরক্তিকর একটি সময়ের মাঝ দিয়ে যেতে হতে পারে।

যদিও অনেকটাই কম দেখা যায় এই ব্যাপারটি সবার ভেতরে। তবুও, ভিটামিন বি১২ যেমন মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলোকে প্রভাবিত করে, তেমনি বি১ ও করে। আর এই প্রভাবের মাধ্যমেই আবেগগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে এটি। ভিটামিন বি১ এর ঘাটতি পূরণে ফুসফুস, শিম, ডাল ইত্যাদি খাবারগুলো নিয়মিত খান।

৫. দীর্ঘমেয়াদী ক্ষত: শরীরে কোন আঘাত পেয়েছেন আর সেটা ঠিকঠাক সময়মতন ভালো হয়ে যাচ্ছেনা? তাহলে আপনার শরীরে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন সি এর অভাব। সাধারণত, শরীরের কোথাও আঘাত লাগলে তাতে ক্ষত তৈরি হলে সেটা ঠিকঠাক হতে দরকার পড়ে নতুন কোষের জন্ম নেওয়ার।

যার জন্যে লাগে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও জিঙ্ক। আর তাই যদি আপনার ক্ষতটি নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে সেরে না যায় তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার শরীরে ভিটামিন সি এর অভাব রয়েছে। আর সেই অভাব পূরণে খেতে হবে লেবু, শাক-সব্জিসহ টকজাতীয় খাবারগুলো।

৬. মন্থর গতি: ধরুন, আপনার সামনে দিয়ে একটা গাড়ি চলে যাচ্ছে। সেটাকে থামাতে হবে আপনার। অথচ ঠিক সময় মতন হাতটা উঠলোই না। কিংবা বল লুফতে গিয়ে বল হাতে আসার অনেক পরে সেটা লুফতে গেলেন আপনি।

ঠিক ধরেছেন। বলছিলাম আপনার মন্থর গতিতে প্রতিক্রিয়া জানানোর ব্যাপারটাকে নিয়েই। কেন এমনটা হয়? কেন একটা কিছু হওয়ার সাথে সাথে কোন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেননা আপনি? এটা কি কেবলই মানসিক ব্যাপার? না।

এর সাথে জড়িত রয়েছে ভিটামিনের অভাব। ভিটামিন বি এর অভাব আপনার শরীরে এই সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কারণ এটি আমাদের নানারকম প্রতিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে ডিম, মেয়োনেজ, বাদামের মতন খাবারগুলো।

 

কোন ভিটামিনের অভাবে কি সমস্যা দেখা দিতে পারে: যে কোন পুষ্টি উপাদানের অভাবেই শরীর বিশেষ কিছু সমস্যা দেখা দেয়, কখনও তা শারীরিক, কখনও বা মানসিক। এর ফলে চুল ঝরে যাওয়া, নানা স্নায়বিক সমস্যা, পেশিতে খিচুনি বা ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য এমনকি মানসিক অবসাদ দেখা দেয় ভিটামিনের অভাবে। ভিটামিনের অভাবে যে সব সমস্যা বা লক্ষণগুলি শরীরে প্রকট হয় আসুন তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

১. সামান্য আঁচড় বা আঘাতেই ত্বক কেটে গেলে বুঝতে হবে শরীরে ভিটামিন সি’র (Vitamin C) অভাব রয়েছে। এছাড়া রুক্ষ ত্বকের সমস্যাও দেখা দেয়। টক জাতীয় খাবার এই ভিটামিন সি’র অভাব মেটাতে সক্ষম।

২. শীতকালে ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া বা ফেটে যাওয়া ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। তবে শরীরের ভিটামিন বি-১২-এর (Vitamin B12) ঘাটতি হলে যে কোনও ঋতুতেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩. চুলে খুশকি হওয়ার অর্থ হল শরীরে ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব ঘাটতি হয়েছে। এছাড়াও বিটামিন বি’র (Vitamin B) অভাবে চুল রুক্ষ হয়ে যায়।

৪. অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়ার একটি কারণ হতে পারে শরীরে কপারের অভাব। এজন্য কাজুবাদাম, মাশরুম ইত্যাদি কপারযুক্ত খাবার খেতে পারেন। তবে হজমের সমস্যা বা লিভারের সমস্যার কারণেও অকালে চুলে পাক ধরতে পারে।

৫. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও কখনও শারীরিক স্ফুর্তির অভাব দেখা দেয়। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও সারাদিন শরীর অবসাদগ্রস্ত থাকা ভিটামিন ডি’র (Vitamin D) অভাবে হতে পারে।

তবে ভিটামিনের অভাব ছাড়াও বিভিন্ন কারণে উপরে উল্লেখিত সমস্যাগুলি দেখা দিতে পারে। তাই চটজলদি নিকটবর্তী ওষুধের দোকান থেকে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট কিনে খাওয়া মোটেই উচিত নয়। প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন। [১]

 

 

ভিটামিন খেলে কি শক্তি বাড়বে?

ভিটামিন হলো খাদ্যের একটি অত্যাবশ্যকীয় জৈব রাসায়নিক উপাদান, যা শরীরের ভেতরে তৈরি হয় না এবং অবশ্যই খাবার থেকে গ্রহণ করতে হয়। আমাদের ধারণা, ভিটামিন শরীরে শক্তি জোগায়, ভিটামিন খেলে দুর্বলতা কমবে বা খারাপ স্বাস্থ্য ভালো হবে। আসলে ধারণাটা ঠিক নয়। ভিটামিন থেকে শরীরে সরাসরি কোনো শক্তি উৎপন্ন হয় না।

তবে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য, যেমন শর্করা, আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাবারের বিপাক-প্রক্রিয়ায় ভিটামিন অংশ নেয়। ফলে দেহে কোনো একটি ভিটামিনের অভাব হলে সেই নির্দিষ্ট উপাদানের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।জৈব রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ভিটামিনকে সাধারণত পানিতে ও চর্বিতে দ্রবণীয় এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন হচ্ছে এ, ডি, ই, কে।

পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন বি এবং সি।পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন শরীরে বেশি জমা থাকে না। ফলে কিছুদিন এই ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ না করলে দ্রুত এর অভাব দেখা দেয়। চর্বিজাতীয় ভিটামিন শরীরে বেশি দিন বেশি পরিমাণে জমা থাকে বলে কিছুদিন এটি খাবারে না গ্রহণ করলেও সহজে সমস্যা হয় না।

ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা, খসখসে ত্বক, রোগপ্রতিরোধক্ষমতা হ্রাস হতে পারে। ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের পা বাঁকা বা রিকেটস এবং বড়দের হাড় ক্ষয় বা অস্টিওমেলেশিয়া রোগ হয়। ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের মধ্যে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স নানা ভিটামিনের সমন্বয়। এদের অভাবে বেরিবেরি রোগ, ঠোঁটের কোণে ঘা, অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা হ্রাস ইত্যাদি হতে পারে। আবার ভিটামিন সি-এর অভাবে হতে পারে স্কার্ভি।প্রয়োজনীয় ভিটামিনের সব কটিই সুষম খাদ্যের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

একই খাবারে সব ধরনের ভিটামিন পাওয়া যায় না। তাই সব ধরনের খাবারই খেতে হবে। বিভিন্ন ধরনের রঙিন শাকসবজি, যেমন গাজর, লালশাক, মিষ্টি কুমড়া, মাছের তেল, অঙ্কুরিত ছোলা, বাঁধাকপি, পালংশাক, ফুলকপি ইত্যাদিতে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন বেশি পাওয়া যায়। সূর্যের আলো ভিটামিন ডি-এর অন্যতম উৎস।

আর তাজা ফলমূল, শাকসবজি, ঢেঁকিছাঁটা চাল ছাড়াও দুধ, ডিম, কলিজা, অর্থাৎ প্রাণিজ আমিষ ইত্যাদিতে পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। টক ফলে আছে প্রচুর ভিটামিন সি। আর ভিটামিন ই-এর উৎস বিভিন্ন ধরনের ভোজ্য তেল। তাই শাকসবজি সামান্য তেল দিয়ে রান্না করা উচিত। সঠিক খাদ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ভিটামিন গ্রহণ করলে বাড়তি ভিটামিন বড়ির কোনো প্রয়োজন হবে না।

About admin

Check Also

মেয়েদের শরীরের কোন অংশ আমরা খেতে পারি ? উত্তর জানলে চমকে উঠবেন…

মেয়েদের শরীরের – বিভিন্ন কোম্পানির ইন্টারভিউতে সাধারণত বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশ্ন করা হয়। বিশেষত যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *